Dua from Quran

মূসা (আঃ) এর জন্ম সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ

মূসা (আঃ) এর জন্ম সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ (বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন)

মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের কাহিনী পুরো কুরআনে শুধু উপরের এই দুইটা জায়গাতেই উল্লেখ করা আছে। তবে হঠাৎ করে এই আয়াতগুলো পড়লে খুব বেশী লাভ হবে না, ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে।  

আমরা এমন একটা সময়ের কথা বলছি যেই সময় বনী ইসরাঈল (মুসা আলাইহিস সালাম যেই গোত্রের ছিলেন)  ফিরাউনের অধীনে কঠিনতম একটা সময় কাটাচ্ছিল। বনী ইসরাঈলীয়দের মধ্যে ছেলে বাচ্চা হলেই তাকে হত্যা করে ফেলছিলো। এখন আপনি যদি একজন কৌতূহলী পাঠক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মনে প্রশ্ন আসা উচিৎঃ 

১) বনী ইসরাঈল কারা?     (উত্তর জানতে ক্লিক করুন)

২) বনী ইসরাইলের বসবস যদি শাম দেশে হয়ে থাকে, তাহলে মুসা আলাইহিস সালামের কাহিনী মিশরে কেন অর্থাৎ বনী ইসরাঈল কিভাবে মিশরে আসলো?    (উত্তর জানতে ক্লিক করুন)  

৩) মন্ত্রী ইউসুফ আলাইহিস সালামের পরিবার হিসেবে ভিআইপি মর্যাদায় মিশরে প্রবেশের পর মুসা আলাইহিস সালামের সময় বনী ইসরাঈলের এমন দুরবস্থা চলছিলো কেন?    (উত্তর জানতে ক্লিক করুন)

এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জানা থাকলে আমরা মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের সময়ের আর্থ সামাজিক পটভূমি বুঝতে পারবো। এরপর আমাদের দরকার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন। উম্মে মুসা তো নবীর মা ছিলেন, উনার মত আমি কিভাবে হবো এভাবে না ভেবে আমাদের উনাকে ‘অনুভব করা’র চেষ্টা করতে হবে। 

কিভাবে অনুভব করবো? 

গর্ভকালীন সময়টা প্রতিটা নারীর জন্য খুবই নাজুক একটা সময় এটা আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। তবে এই সময়ের কষ্টগুলো, প্রসববেদনা মেয়েরা নিতে পারে শুধুই একটা শিশুকে বুকে নিবে, তার মুখে মা ডাক শুনবে এগুলোর আশায়। তাই এই যাত্রার সমাপ্তিটা যদি সুন্দর হয়, আল্লাহ একটা ফুটফুটে, সুস্থ সন্তান দেন এবং আশেপাশের পরিবেশ যদি অনুকূল হয় যেখানে মা ও শিশুকে সাদরে বরণ করে নেয়া হচ্ছে তাহলে মায়েরা কষ্টগুলো ভুলে যায়। এই জিনিসগুলো যখন হয় না তখন জীবনটা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। এজন্য গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা খুব ট্রমা তৈরি করে। আবার কারো যদি এমন হয় যে সন্তান মেয়ে হওয়ার কারণে শ্বশুরবাড়ির সবাই মুখ ভার করে আছে এমনকি তালাক্ব হয়ে গেছে তাহলেও কিন্তু সেটা যন্ত্রনাদায়ক একটা অভিজ্ঞতা। মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের ব্যাপারটা কিন্তু এমন ছিল…… যেহেতু আল্ট্রাসাউণ্ড করে বাচ্চার লিঙ্গ জানার উপায় ছিলো না, অতএব গর্ভকালীন সময়টা উনার প্রচণ্ড একটা অস্থিরতার মধ্যে কেটেছে। যখন দেখলেন যে ছেলে বাচ্চা হয়েছে তখন সেই অস্থিরতা তো কমলো না বরং আরো বাড়লো! এই বুঝি ফিরাউনের সৈন্যরা টের পেয়ে গেলো আর এসে ধরে নিয়ে গেলো…… 

আমাদের বুঝতে হবে যে গর্ভকালীন কষ্টগুলো, প্রসববেদনা মেয়েরা নিতে পারে শুধুই একটা শিশুকে বুকে নিবে, তার মুখে মা ডাক শুনবে এগুলোর আশায়। তাই এই যাত্রার সমাপ্তিটা যদি সুন্দর হয়, আল্লাহ একটা ফুটফুটে, সুস্থ সন্তান দেন এবং আশেপাশের পরিবেশ যদি অনুকূল হয় যেখানে মা ও শিশুকে সাদরে বরণ করে নেয়া হচ্ছে তাহলে মায়েরা কষ্টগুলো ভুলে যায়। মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা হয় নি। প্রসব পরবর্তী কঠিন সময়টাতে উনাকে দূরহ একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে- আল্লাহর নির্দেশমত সদ্যজাত সন্তানকে বাক্সবন্দী করে পানিতে ভাসিয়ে দিতে হয়েছে। 

এই কাজ করার পর স্বাভাবিকভাবেই উম্মে মুসার খুব অস্থির লাগছিলো। আল্লাহর ওয়াদা সাথে ছিল বলেই যে উনি একদম নিশ্চিন্তে বসেছিলেন এমন না কিন্তু। 

কি করেছিলেন উনি? 

বাক্স বন্ধী ছেলের পরিণতি দেখার জন্য যে উনি নিজের মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন বাক্সটা অনুসরণ করতে। উম্মে মুসা যেই আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ছিলেন সেখানে বনি ইসরায়েল গোত্রের একজন প্রসূতি মা হিসেবে বাক্সবন্দী বাচ্চার পরিণতি দেখার জন্য নিজেই যদি ছুটে বেরিয়ে যেতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তা ফেরাউনের সৈন্যদের চোখ এড়াতো না। বরং নাবালক কন্যা সন্তানকে পাঠানোর মাধ্যমে চরম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন কারণ একটা বাচ্চা মেয়ে উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে ঘুরে বেড়ালে সেটা হয়তো সন্দেহের উদ্রেক করবে না। এখান থেকে আমরা শিখি যে ইসলাম আবেগের প্রকাশকে নিরুৎসাহিত করে না, তবে সেটার প্রকাশ যেন নিয়ন্ত্রিত হয়। 

আচ্ছা বাক্স বন্ধী ছেলের পরিণতি দেখার জন্য উনি যে মেয়েকে পাঠালেন, এটার প্রাথমিক ফলাফল কী ছিল? স্বস্তিদায়ক কিছু কি ঘটলো নাকি ‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে” এই প্রবাদ বাক্যের মতন যার কবল থেকে বাঁচতে এত আয়োজন তার প্রাসাদের তীরে গিয়েই থামলো বাক্সটা?

এতে কি আল্লাহর উপর আস্থা রাখার পরিণতি নিয়ে কি সংশয় সৃষ্টি হওয়ার কথা?

হয়তো, কিন্তু অভাবনীয় পরিণতি দেখার জন্য দরকার আর একটু ধৈর্য্য!

বাক্সটা যখন ভাসতে ভাসতে ফিরাউনের প্রাসাদের তীরে গিয়ে থামলো, ঘটনাক্রমে ফিরাউন ও তার স্ত্রী তখন সেখানেই ছিলো। বাক্সটা খুলে যখন দেখলো ভিতরে একটা ফুটফুটে শিশু, ফিরাউন তখন তাকে বুকে তুলে নিলো!

আচ্ছা এরপর কী হলো?

দত্তক হিসেবে গ্রহণ করা শিশু মুসা তখন ভিআইপি সেবা পাচ্ছেন। উনাকে খাওয়ানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু উনি কারোটাই খাচ্ছেন না!

এই সময় মঞ্চে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলো একজন….

কে সে?

কুরআন থেকেই জানতে পারি যে, সেই মানুষটি ছিল মুসা আলাইহিস সালামের বোন, যাকে উনার মা দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাক্সটাকে নদীর তীর দিয়ে অনুসরণ করতে…(অনেক মুফাসসিরদের মতে মুসার এই বোনের নাম ছিল মারইয়াম। বর্ণনার সুবিধার্থে আমরা তাকে এই নামেই ডাকবো)

কী করেছিলো মারইয়াম?

বাক্সটাকে ফেরাউনের প্রাসাদের তীরে ভিড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়ে তার মাকে আপডেট জানাতে ছুটে গিয়েছিল?

না, বরং সে অপেক্ষা করেছিল ঘটনার শেষ দেখা পর্যন্ত!

শুধু তাই না, সাহসের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সমাধানও বাতলে দেয়ার চেষ্টা করলো, প্রস্তাব করলো এক সম্ভাব্য ধাত্রীর নাম!

কে ছিল সেই মহিলা?

হ্যাঁ, আর কেউ নয়, নিজের মায়ের কথাই বলেছিল  মারইয়াম। নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিতা দিয়ে সে বুঝতে পেরেছিল যে শিশু মুসা নিজের মায়ের দুধ খেতে কখনোই অস্বীকার করবে না।

কিন্তু ব্যাপারটাকে মারইয়াম কিভাবে উপস্থাপন করেছিল? সে কি বলেছিল যে এটা ওর/শিশু মুসার মা?

অবশ্যই না! তাহলে তো শিশু মুসার আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়েই যেতো! ২৮:১২ আয়াতে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে মুসার বোন নিজের পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে এমন ভাবে বিষয়টা উপস্থাপন করেছিল যেন এটা জাস্ট এমনি একটা চেনা পরিবার যার কথা ওর হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেছে!

তারপর কী হলো?

ফেরাউনের সৈন্যরা মুসার মায়ের কাছে গেলো…

কেন?

মুসার পরিচয় জেনে গিয়ে তার মায়ের সামনেই তাকে হত্যা করতে?

অবশ্যই না!

বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শিশু মুসাকে স্তন্যপান করানোর প্রস্তাব দিতে।

আচ্ছা ফিরাউনের সৈন্যদের নিজের বাড়িতে আসতে দেখে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল উম্মে মুসার?

প্রচণ্ড ভয়ে আর আতঙ্ক কি তাকে গ্রাস করেনি? তারপর যখন বুঝলেন কী অভাবনীয় ভাবে আল্লাহ তার বুকে শিশু মুসাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তখন কেমন লেগেছিল উনার?

নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্যি, আমাদের শুধু দরকার ধৈর্য্য ধরার।

সেটা কি পারি আমরা?

আচ্ছা এই ঘটনা প্রবাহ কি রুদ্ধশ্বাস কোন থ্রিলারের চেয়ে কোন অংশে কম?

অবশ্যই না। 

কিন্তু এগুলো কি নিছকই এক গল্প? এই কাহিনী  জেনে আজকের আমার কী লাভ? কুরআনের ঘটনাগুলো এভাবে অধ্যয়ন করার উদ্দেশ্য মূলত দুটি অভ্যাস গড়ে তোলা-  

১) কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করার 

২) কুরআনের ঘটনার রেফারেন্স টেনে দুআ করার।

তাহলে শুরু করা যাক?

মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের পরিস্থিতিটা যদি আমরা এভাবে অনুভব করতে পারি, তাহলে উপরের আয়াতগুলো থেকে আমরা বেশ কিছু চিন্তার খোরাক পাবো– 

চিন্তার খোরাক ১ 

আমাদের/ আমাদের আশে পাশের মানুষের জীবনের কোন পরিস্থিতিগুলো উম্মে মুসার অনুরূপ? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ২ 

একটা বাচ্চাকে বাক্সের মধ্যে বন্দি করে নদীতে ভাসিয়ে দিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বিশেষ করে একজন মায়ের পক্ষে এই কাজটা করা রীতিমত কষ্টদায়ক। তারপরও মূসা (আ:) এর মা কিভাবে পেরেছিলেন তা করতে? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৩ 

সদ্যজাত সন্তানকে বাক্সবন্দী করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া আর বাচ্চাটিকে ঘরে রেখে অপেক্ষা করা-দুটোর নিশ্চিত পরিণতি তো একই-সন্তানের মৃত্যু, তাহলে কেন উম্মে মুসা প্রথম কাজটি করলেন? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

 চিন্তার খোরাক ৪ 

ফিরাউন যেখানে বনী ইসরাঈলের ছেলে শিশু হলেই তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল এবং বনি ইসরাইল ও মিশরীয়রা দেখতে পুরোই আলাদা ছিল, তাহলে বাক্সের ভিতরে বনী ইসরাঈলের একটা ছেলে শিশু দেখেও কেন ফিরাউন তাকে হত্যা করলো না? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৫ 

শিশু মুসা ফিরাউনের ঘরে লালিত পালিত হওয়া থেকে আমরা আল্লাহর কোন কোন সৈন্যের ব্যাপারে ধারণা পাই?  

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৬ 

এত মানুষ থাকতে আল্লাহ কেন ফেরাউনের প্রাসাদেই মুসা (আ:) কে লালন পালনের ব্যবস্থা করলেন?  অন্য কোনভাবেওতো তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন।

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৭ 

২৮:১২ নং আয়াত থেকে আমরা বাচ্চা রক্ষণাবেক্ষণকারীর কোন দুইটা বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন) 

চিন্তার খোরাক ৮ 

বর্তমান পৃথিবীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি? 

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

তবে এইসব ঘটনা জানার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হচ্ছে এগুলোর রেফারেন্স টেনে দুআ করা। সেটা কেমন? 

Scroll to Top