মিশরে বনী ইসরাইলদের অবস্থার পরিবর্তন
প্রশ্ন উঠতে পারে যে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মতো একজন ভিনদেশী কিভাবে হঠাৎ করে এত কর্তৃত্বশীল পদ পেলেন। কিছুটা অস্বাভাবিক বৈকি! অবশ্য ইতিহাসের আলোকে দেখলে ব্যাপারটা আর খাপছাড়া লাগে না। কারণ ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হলেন, তখন মিশরের শাসনক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিবর্গ নিজেরাই ছিল ভিনদেশী, অমিশরীয়।
ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি এই জাতির নাম ছিল হিক্সস (Hyksos)। তারা ১৭২০ খ্রি.পূর্বে মিশরের শাসন ক্ষমতা দখল করে। যতদিন তারা ক্ষমতায় ছিল, ততদিন বনী ইসরাঈলরা মিশরে মোটামুটি সম্মানের সাথেই অবস্থান করেছে। কিন্তু ১৫৬০ খ্রি.পূর্বের দিকে মিশরীয়রা ভিনদেশী হিক্সস জাতিকে দূর করে দিয়ে নিজেরা শাসনক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে। এই সময়টা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে ‘New Kingdom’ এর সূচনাকাল হিসেবে পরিচিত।
ফেরাউন তথা মিশরীয়রা ক্ষমতায় আসার পর এক অন্ধ জাতীয়তাবাদ সমস্ত বিদেশীদের প্রতি তাদের ক্রোধান্বিত করে তোলে। যেহেতু হিক্সসদের সময়ে বনী ইসরাঈলরা মিশরে এসেছিল, তাই তাদের প্রতিও শাসকগোষ্ঠীর ছিল প্রচণ্ড বিরাগ। এসময় বনী ইসরাঈলদের সাথে দাস দাসীর মত আচরণ করা হত, তারা ছিল চরম নির্যাতিত ও অত্যাচারিত।
এই সময়ে ফেরাউন একটা স্বপ্ন দেখে। সেসময় স্বপ্নকে খুব গুরুত্বের সাথে নেয়া হতো, যা আমরা ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীতেও দেখেছি। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীগণ ফেরাঊনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করে যে, বনী ইসরাঈলদের মাঝ থেকে একজন শিশু সন্তান তার সাম্রাজ্য দখল করে নেবে। এটা ঠেকানোর জন্য ফেরাউন বনী ইসরাঈলদের ঘরের প্রতিটা ছেলে সন্তানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং সে তা করতেও থাকে।
এই পটভূমিতে যখন আমরা মুসা আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী কুরআনে পড়ব, তখন তা বুঝতে অনেক সহজ হবে ইনশাল্লাহ।
