উম্মে মুসার ঘটনার রেফারেন্স টেনে দুআর উদাহরণ
আমাদের জীবনে হয়তো কখনও সদ্যজাত সন্তানকে বাক্সবন্দী করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না ইনশাআল্লাহ, তবে এই ঘটনার রেফারেন্স টেনে আমরা আমাদের জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুআ করতে পারি। যেমন–
১. বাচ্চা অসুস্থ হলে বা দ্বীন থেকে দূরে সরে গেলে আমরা উম্মে মুসার রেফারেন্স টেনে দুআ করতে পারি যে,
“ইয়া রাব্বি তুমি তো মুসা (আ:) এর মায়ের কোলে অভাবনীয়ভাবে তার বাচ্চাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে, সেভাবে আমার সন্তানকে সুস্থ এবং নেককার অবস্থায় আমার কোলে ফিরিয়ে দাও।”
২. সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হলে এভাবে দুআ করতে পারি যে,
“আল্লাহ তুমি যেভাবে বাক্স বন্দি অবস্থায় নদীতে কিংবা ফেরাউনের কোলে শিশুকে যেভাবে নিরাপদ রেখেছিলে আমার সন্তানকেও সেভাবে নিরাপদ রেখো।”
৩.জীবনের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যখন সামনে থাকা সবগুলো অপশনই অনেক কঠিন মনে হয় তখন আমরা উম্মে মুসার রেফারেন্স টেনে দুআ করতে পারি যে,
“আল্লাহ তুমি উম্মে মুসার হৃদয় যেমন দৃঢ় করে দিয়েছিলে, তোমার ওয়াদা সাথে আছে এমন অপশন বেছে নেয়ার তৌফিক দিয়েছিলে, আমাকেও সেভাবে দৃঢ় করে দাও ইয়া রাব্বি ।”
৪. যখন আমরা আমাদের অবস্থার অবিশ্বাস্য পরিবর্তন চাই তখনও আমরা এই ঘটনার রেফারেন্স টেনে দুআ করতে পারি। নি:সন্দেহে ফিরাউনের সৈন্যদের হাতে শিশু মুসার মৃত্যু হওয়াটাই যেখানে সম্ভাব্য পরিণতি ছিল সেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাকে স্তন্যপান করানোর প্রস্তাব নিয়ে মুসা’র মায়ের কাছে যাওয়া ——-একটি অভাবনীয় ঘটনা। এভাবে নাটকীয়ভাবে ঘটনার মোড় ঘুরে যাওয়া দেখে আমরা আশান্বিত হই যে, আল্লাহ চাইলে প্রতিকূল পরিস্থিতি বদলে গিয়ে অনুকূল হয়ে যাওয়া কোনো ব্যাপারই না। তাই এই ঘটনা থেকেও আমরা দুআ করতে পারি।
