মুসা (আঃ) এর জন্ম সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-৩' এর সম্ভাব্য উত্তর
সম্ভাব্য উত্তর ৩
কারণটা কুরআন আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে! পার্থক্য হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যেই বিকল্পটা দিচ্ছেন, আদেশটা দিচ্ছেন, সেটার মধ্যে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার ওয়াদা জড়িত। তিনি বলছেন তুমি তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করো এবং ভয় করো না, দুঃখ করো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে নবীদের একজন করব।
আপাতদৃষ্টিতে নিশ্চয়ই এটা একটা অবাস্তব ওয়াদা। ফেরাউনের সৈন্যদের হাতে পায়ে ধরে আবেদন করলে বাচ্চাটা বাঁচার বরং এক শতাংশ সুযোগ আছে। কিন্তু একটা সিন্দুকে ভোরে নীল নদে ভাসায় দিলে বাচ্চাটা বাঁচার তো কোন সম্ভাবনাই নেই। তাই দুইটা কঠিন অপশনের মধ্যে তিনি সেটাই বেছে নিলেন যেটি আল্লাহ তাকে নিতে বলেছেন।
এরকম কোনো পরিস্থিতির কথা কি আপনাদের মনে পড়ে?
ধরুন আপনি প্রথম বারের মত মা হতে চলেছেন, পাঁচ মাসের আল্ট্রা সাউন্ডে ধরা পরলো যে অনাগত সন্তান প্রতিবন্ধী হবে। ডাক্তার বলছে গর্ভপাত করতে……………
নূন্যতম মানবিক বোধ সম্পন্ন একজন হবু মায়ের পক্ষে প্রথম সন্তানকে গর্ভপাত করা কোন সহজ সিদ্ধান্ত নয়। আবার গর্ভপাত না করে সারা জীবনের জন্য একটা অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে দিন কাটানো খুবই ভয়ঙ্কর একটা ব্যাপার।
তবে দুটো অপশনের মাঝে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। গর্ভকালীন ৫ মাসের সময় গর্ভপাত করা ইসলামী শরীয়তে একেবারে নিষিদ্ধ যদি না এতে মায়ের জীবনে ঝুঁকি থাকে। তাই বলা যায় দ্বিতীয় অপশনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা আছে প্রথম অপশনের ক্ষেত্রে যা অনুপস্থিত।
এভাবে পরিস্থিতির মিল খোঁজার সময় আবারো মাথায় রাখবো যে বাচ্চা সংক্রান্তই হতে হবে এমন নয় বরং যে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত, যেখানে আল্লাহর ওয়াদা আছে সাথে, সেটা নিতে হলেই আমরা উম্মে মুসার মত অবস্থায় আছি ইনশাল্লাহ।
আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে মুসা আলাইহিস সালামের মা কোনো মহামানবী ছিলেন না যার জন্য নিজের সদ্যজাত সন্তানকে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া খুব সহজ কিছু ছিল। উনি আমাদের মতই রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন এবং এজন্যই আল্লাহ উনাকে আমাদের সামনে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
আমাদের সাথে উনার পার্থক্য হয়তো বা এটাই যে কঠিনতম অবস্থাতে আল্লাহর ওয়াদার উপর উনি ভরসা রাখতে পেরেছিলেন, আল্লাহ উনার কাছ থেকে যা আশা করছেন, সেটা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উনি যখন এই প্রথম স্টেপ নিয়েছিলেন, আল্লাহ তখন রহমতের চাদরে উনাকে আবৃত করে দিয়েছিলেন যেটার প্রথম ধাপ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে উনার অন্তর দৃঢ় করে দেয়া যেটার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
