Dua from Quran

মূসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ

মূসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ (বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন)

মুসা আলাইহিস সালামের মিশর ত্যাগের পটভূমিতে আমরা দেখেছি যে কিভাবে উনি কপর্দকশূন্য অবস্থায় মিশর থেকে বেরিয়ে গেলেন মাদইয়ানের উদ্দেশ্যে। ঘটনার এই পর্যায়ে এসে আমরা একটু ব্যক্তি মুসাকে ‘অনুভব’ করার চেষ্টা করবো। কারণটা আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি- আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে কুরআনের চরিত্রগুলোকে দূর আকাশের তারা থেকে পাশের বাসার প্রতিবেশীর মত কাছের মানুষে পরিণত করা। 

মিশর ত্যাগের সময় নিঃসন্দেহে মুসা আলাইহিসসালামের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা কাজ করছিল। মনের মধ্যে তীব্র আত্মগ্লানি, নিজের উপর চরম বিরক্তি…প্রথমত আপনি একজনকে ভুল করে হত্যা করে ফেলেছেন, যেটা প্রচণ্ড একটা মানসিক চাপ। দ্বিতীয়তঃ লোকটা যদি আসলেই অপরাধী হত তাহলে ব্যাপারটা ছিল একরকম, কিন্তু পরে টের পেলেন যে যাকে রক্ষা করেছেন সেই ছিল আসলে অপরাধী। নিরপরাধ একজনকে হত্যা করেছি এটা বোঝার পর প্রচন্ড কষ্টে মেজাজ খারাপটা আরো বাড়ার কথা। তৃতীয়ত, প্রচন্ড কৃতঘ্নতার অনুভূতি। যাকে সাহায্য করলেন সেই আপনার পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করে দিল। চতুর্থত, পরবর্তী করণীয় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা…যখন মুসা জানতে পারলেন যে ওনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তখন তো আবার প্রাসাদে ফিরে গিয়ে টুকটাক কিছু নিয়ে আসা বা ওনার পরিবারকে জানিয়ে আসার তো প্রশ্নই আসে না! এখানে আমাদের কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে মুসা আলাইহিস সালাম বড় হয়েছেন ফিরাউনের রাজপ্রাসাদে, রাজকুমার হিসেবে……সেই অবস্থা থেকে আক্ষরিক অর্থেই খালি হাতে মাদইয়ানের দিকে রওনা দেয়া কোনো সহজ বিষয় ছিলো না……উপরন্তু আমাদের সময়ের মত প্লেনে বা GPS ওয়ালা গাড়িতে করে ভ্রমণটা ছিলো না, এটা ছিলো পায়ে হেঁটে একটা যাত্রা ………কোন দিকে যাবেন, কিভাবে যাবেন?

এহেন পরিস্থিতিতে কোন ব্যাপারটা আমাকে অভিভূত করে জানেন? 

মুসা আলাইহিস সালামের আল্লাহর উপর ভরসা করতে পারা……আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা……

যখন একদম হঠাৎ করেই সাজানো সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, তখন এই আস্থা ধরে রাখা যে নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন……(২৮ঃ২২) এই ব্যাপারটাই এখানে আমাদের শিখতে হবে……

তারপর কী হল?

একদম পায়ে হেঁটে মুসা আলাইহিস সালাম মাদইয়ান পৌঁছালেন। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এহেন ক্লান্ত, বিধ্বস্ত অবস্থাতেও উনি পোঁছানোর পরপরই চারপাশ মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করতে থাকলেন এবং সামনের কূপে একটা দৃশ্য ওনার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। উনি খেয়াল করলেন যে এক দল লোক তাদের পশুকে পানি খাওয়াচ্ছে আর দুজন মেয়ে এক সাইডে দাঁড়িয়ে তাদের পশুদেরকে আগলে রাখছে। মুসা আলাইহিস সালাম তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন, ঘটনার বৃত্তান্ত জানতে চাইলেন। মেয়ে দুটো জানালো যে তাদের বাবা অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে গৃহপালিত পশুদের খাওয়ানোর এই কাজ তাদেরকে করতে হচ্ছে, সবাই যখন চলে যাবে, তখন তারা তাদের পশুদের পানি খাওয়াবে……

মুসা আলাইহিস সালাম আর বাক্যব্যয় না করে পশুগুলোকে নিয়ে পানি খাইয়ে দিলেন, তারপর আবার ছায়ায় ফিরে গিয়ে বিখ্যাত দুআটা করলেন-

হে আমার রাব, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই পাঠাবে আমি তারই জন্যে ভিখারী হয়ে আছি। (২৮:২৪) 

কপর্দকশূণ্য অবস্থায়, অচেনা, অজানা একটা দেশে মরিয়া হয়ে মুসা আলাইহিস সালাম এই যে দুআটা করেছিলেন, সেটার উত্তর কিভাবে পেয়েছিলেন?

কিছুক্ষণের মধ্যেই মেয়ে দুটোর একজন সলজ্জভাবে মুসা আলাইহিস সালামের কাছে আসলো এবং জানালো যে          তাদের বাবা উনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, এভাবে পানি খাওয়ানোর কাজের পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য। মুসা আলাইহিস সালামও বাক্য ব্যয় না করে মেয়েটার সাথে সাথে গেলেন। তারপর মেয়ের বাবার কাছে গিয়ে সমগ্র বৃত্তান্ত খুলে বললেন, কেন তিনি মাদইয়ান এসেছেন। সব শুনে মেয়েদের বাবা তাকে জানালেন যে এখানে উনি নিরাপদ, কারণ ফিরাউনের শাসন এখানে প্রযোজ্য না। 

কুরআন আমাদেরকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিস্তারিত জানায় না তবে ধারণা করা যেতে পারে যে এই কাহিনী মেয়েগুলোও আড়াল থেকে শুনেছিল। তখন  মেয়েডেড় একজন তার বাবাকে প্রস্তাব দেয় যে মুসাকে যেন কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। মুসা যে এই কাজের জন্য খুবই উপযুক্ত সেটাও উল্লেখ করে দেয়। বাবা বুঝতে পারেন যে মেয়ে পরোক্ষভাবে উনাকে বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে। বাবা তাই করেন, মুসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সাথে শর্ত দেন যে অন্তত ৮ বছর ওনাকে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে হবে, যদি ১০ বছরে করেন তাহলে তো খুবই ভালো। মুসাও সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, সাথে জানিয়ে দেন যদি ১০ বছরের কোটা পূরণ নাও করেন, ৮ বছর পরেই এই চাকরী ছেড়ে দিতে চান তাহলে তিনি চুক্তি ভঙ্গের দায়ে দায়ী হবেন না।

এভাবেই অজানা, অচেনা একটা শহরে এসে মুহুর্তের মধ্যে মুসা আলাইহিস সালামের রিযিকের ব্যবস্থা হয়ে যায়, একই সাথে চাকরি, বাসা, পরিবার, নিরাপত্তা সবকিছুরই ব্যবস্থা হয়ে যায়, অন্তত ৮ বছরের জন্য! 

এই ছিলো মুসা আলাইহিস সালামের বিয়ের ঘটনা যেটুকু কুরআনে এসেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এটা হচ্ছে একমাত্র বিয়ের কাহিনী যেটার কথা কুরআন উল্লেখ করছে। এবার তাহলে আমাদের নিয়মিত কাজ শুরু করা যাক? এই ঘটনা থেকে আমরা কী কী চিন্তার খোরাক পাই?

চিন্তার খোরাক ১

আমাদের জীবনে এমন কোন পরিস্থিতি এসেছে/আসতে পারে যেটা মুসা আলাইহিস সালামের মিশর ত্যাগের সময়ের অবস্থার অনুরূপ?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ২

ক্লান্তিকর একটা সফর শেষে মাদইয়ানে পৌঁছেই মুসা আলাইহিস সালাম প্রথম কোন কাজটা করেছিলেন? এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৩

মাদইয়ানে পৌঁছেই মেয়েদুটোকে সাহায্য করার ঘটনা থেকে আমরা ‘মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে’ কী শিক্ষা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৪

মেয়েদুটোকে সাহায্য করার ঘটনা থেকে আমরা ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়ার ব্যাপারে’ কী শিখতে পারি?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৫

প্রচণ্ড ক্লান্ত এবং বিধ্বস্ত অবস্থাতেও মুসা আলাইহিস সালাম যে মেয়ে দুটোকে সাহায্য করলেন এখান থেকে আমরা দুআ কবুলের কোন আদব জানতে পারি?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৬

সূরা ক্বাসাসের ২৮ নং আয়াতে মুসা আলাইহিস সালামের দুআটা আমরা নিজেদের জীবনে কখন পড়তে পারি। 

আপনারা যদি কেউ কোরআন জার্নালিং করেন তাহলে এটা নিয়ে লিখতে পারেন কোন অবস্থায় আপনারা এই দোয়াটা করতে পারতেন যদি এই দোয়াটা জানতেন/ কোন অবস্থায় এই দোয়াটা করেছেন এবং মারাত্মক ফল পেয়েছেন।

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৭

মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের এই ঘটনা থেকে ‘যার উপকার করবো সে আবার পরে আমার উপকার করবে’ এই ধারণার ব্যাপারে কী শিক্ষা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৮

আল্লাহ যে মুসা আলাইহিস সালামকে লম্বা একটা সময়ের জন্য প্রাসাদের বাইরে নিয়ে আসলেন এটার পিছনে কী 

হিকমাহ থাকতে পারে?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ৯ 

মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের এই ঘটনা থেকে প্যারেন্টিং এর ব্যাপারে কী শিক্ষা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১০ 

মুসা আলাইহিস সালামের বিয়ের পেছনের এই পুরো ঘটনা থেকে কি আমরা মেয়েদের কর্মজীবনের ব্যাপারে ধারণা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১১

মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের এই ঘটনা থেকে নারী ও পুরুষের মাঝে ইন্টার‍্যাকশনের ব্যাপারে কী গাইডলাইন পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১২

মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের এই ঘটনা থেকে মেয়েদের মতামত দেয়ার ব্যাপারে কী শিক্ষা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১৩

মুসা আলাইহিস সালামের বিয়ের এই ঘটনা থেকে পাত্র নির্বাচনের ব্যাপারে কী শিক্ষা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১৪

সূরা ক্বাসাসের ২৬ নং আয়াত থেকে কাউকে কাজে নিয়োগ দেয়ার মূলনীতি সম্পর্কে কী ধারণা পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

চিন্তার খোরাক ১৫

যে বৈশিষ্ট্য/দক্ষতা আমাদের জন্য নিয়ামত, জীবনের পরিক্ষাগুলোও সেই সংক্রান্তই হয়ে থাকে-এমন কোনো শিক্ষা কি আমরা মুসা আলাইহিস সালামের জীবন থেকে পাই?

সম্ভাব্য উত্তর (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

মুসা আলাইহিস সালামের বিয়ের ঘটনার রেফারেন্স টেনে আমরা কী কী দুআ করতে পারি? (সম্ভাব্য উদাহরণ দেখতে ক্লিক করুন)

Scroll to Top