মুসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-১০' এর সম্ভাব্য উত্তর
সম্ভাব্য উত্তর ১০
এই ঘটনার যে বিষয়টা আমাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করে সেটা হচ্ছে সমাজের রুঢ় বাস্তবতার প্রতিফলন। সমাজের বাস্তবতা তো এই যে সব মেয়েদের শক্ত মাহরাম থাকবে না, তাদেরকে বাধ্য হয়ে কাজের জন্য বের হতে হবে এবং যেখানে কাজ করতে হবে সেটার পরিবেশও নারী বান্ধব হবে না! এই মেয়েগুলো আমাদের সমাজেরই অংশ এবং প্রতিদিনের জীবনে তাদের যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সেগুলোর যদি সমাধান আমরা নাও দিতে পারি, সেগুলোর স্বীকৃতি অন্তত দেয়া উচিৎ। অথচ ইস্লামিক বুদ্ধিবৃত্তিক সার্কেলে সাধারণত আমরা কী দেখি? মেয়েদের চাকরি অথবা বাইরে কাজ করার ব্যাপার নিয়ে অনেক শর্ত দেওয়া হয় যেগুলো পড়লে মনে হয় সব মেয়েকেই ঘরের রাণী করে রাখা হয়েছে, যারা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছে তারা সবাই নারীবাদী কিংবা বহির্মুখী যাদের বিলাসিতা করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দরকার, স্বামীর উপার্জনে তারা সন্তুষ্ট না। আমাদের মাঝে প্রায়ই নিজেদের পরিস্থিতি দিয়ে সবার পরিস্থিতি বিচার করার একটা প্রবণতা থাকে। হয়তোবা কারো স্বামী ভালো, কথা শোনায় না, ঘরের কাজকে মূল্যায়ন করে, কিংবা কর্মক্ষম মাহরাম আছে, তখন আমরা অন্যদের উপরে খুব কঠিন কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেই। এর ফলে আমরা নারীদের মাঝে বিশাল একটা অংশের গ্রহণযোগ্যতা হারাই যারা হয়তো বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দ্বারা সহিংসতার স্বীকার, যাদের কাছে মনে হয় ইসলামের বিধি বিধান আমার জন্য নয়। অথচ কুরআন আমাদেরকে বাস্তব চিত্র দেখায়। শুধু তাই নয়, এহেন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম নারীর করণীয় কী সেটাও দেখিয়ে দেয়।
কী সেটা?
পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, হায়া বিসর্জন না দেয়া।
আমাদের তো আর কোনো উপায় নেই-এই যুক্তি দেখিয়ে মেয়েগুলো তো পারতো ধাক্কাধাক্কি করে পশুগুলোকে পানি পান করাতে, পারতো না? তারা সেটা করে নাই, এবং এজন্য যে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে সেটা মেনে নিয়েছে। সবার শেষে পানি খাওয়াতে গেলে পশুগুলোকে অনেক বেশী সময় ধরে, অনেক কষ্ট করে নিয়ন্ত্রণ করা লাগে যেহেতু পানির কাছে গিয়ে পশুগুলো অস্থির হয়ে ওঠে। শেষের দিকে পানি হয়তো যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় না……এত গুলো লোকের মাঝে লম্বা সময় অবস্থান করাও স্বস্তিকর কোনো অভিজ্ঞতা নয় বটেই। কিন্তু তারপরো তারা ছেলেদের সাথে ফ্রি মিক্সিং বলতে যেটা বোঝায় সেটা এড়িয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
আমাদের সময়ে এটার প্রয়োগ কী?
ধরেন কেউ বললো যে বাসায় আমার অসুস্থ বাবা, ভাই নাই ,আমার স্বামী নাই কিংবা আমি বিধবা এই কারণে আমি বাইরে কাজ করতে গেছি, এখন অফিসের বসের সাথে যদি একটু হেসে কথা না বলি বা সহকর্মীদের সামনে যদি একটু সাজগোজ করে না যাই, তাহলে আমার পদোন্নতি হবে না, অথচ সেই অতিরিক্ত টাকাটা আমার বাবার ওষুধ কেনার জন্য জরুরী……এ ধরনের আপোষ শরীয়াতে অনুমোদিত না। আমাদেরকে শরীয়তের নির্ধারিত সীমাটা কোথায় এটা বুঝতে হবে, এই জায়গায় এসে রিযিকের মালিক আল্লাহ এই তাওয়াক্কুল করতে হবে। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করার অর্থ কী? কারো স্বামী মাতাল হয়ে এসে পেটাচ্ছে, অথবা কারো ভাই নেশায় আসক্ত, কোন মাহরাম নেই তখন দাঁতে দাঁত চেপে বাসায় বসে থাকবে এটা ভেবে যে কোন অবস্থাতেই মেয়েদের বাইরে বের হওয়া অনুমোদিত না-এটা ইসলামের শিক্ষা না। ইসলাম আমাদেরকে বন্ধ দরজার সামনে কান্নাকাটি করা শিখায় না, শিখায় যে সামনের দরজাটা বন্ধ থাকলে এগিয়ে গিয়ে খোঁজা যে কোন দরজাটা খোলা। অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করাটাই হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে মুসা আলাইহিস সালামের সময়ের একটা ঘটনা আমাদের সময়ের জন্য প্রযোজ্য কী না। উত্তর হচ্ছে, জ্বী, প্রযোজ্য কারণ এটা কুরআন উল্লেখ করছে আর কুরআন আমাদের জন্য শরীয়তের প্রধান উৎস। কুরআনে উল্লেখিত কোনো কিছু যদি শরীয়তের অংশ না হয় তাহলে সেটা অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম আমাদের জানিয়ে দিতেন।
