Dua from Quran

মুসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-১২' এর সম্ভাব্য উত্তর

সম্ভাব্য উত্তর ১২

আমরা হয়তো খেয়াল করেছি যে মুসাকে কাজে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব মেয়েটিই দিয়েছিল তাদের বাবাকে। আগেই বলেছি যে বাবা মেয়ের মাঝে সহজ একটা সম্পর্ক ছিলো, সেটা থেকে বাবা টের পেয়েছিলেন যে মেয়েটা মুসার ব্যাপারে আগ্রহী। তাই তিনি মুসাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাবই দেন। এক্ষেত্রে তিনি বাসার সামগ্রিক নিরাপত্তা/ পর্দার কথাও চিন্তা করেছেন। ব্যাপারটা খুবই স্পষ্ট যে শুধু চাকরির প্রস্তাব দিলে একি বাড়িতে থেকে প্রত্যেকদিন যোগাযোগ হতো। তখন নানা ধরনের পর্দা লঙ্ঘন হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান আমি অনেকের মধ্যে দেখি না। ড্রাইভার‌, দারোয়ান বাসায় ঢুকে যাচ্ছে। অমুক আমার ভাইয়ের মতন, অমুক আমার বোনের মতন এই বলে কাজিনদের সাথে খোলামেলা আচরণ চলছে। ওনার বাবা এটার একটা সুন্দর সমাধান করলেন। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে একটা মেয়ের কি এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে মতামত দেয়ার অধিকার আছে, তার কথা আমলে নেয়ারই বা দরকার কী?

দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে মেয়েদের ব্যাপারে ইস্লামিস্টদের ধারণা খুবই নিম্নমানের। মেয়েদের বুদ্ধি হাঁটুর নিচে, আমি পুরুষ হয়ে মেয়েদের কথা শুনবো কেন এই ধরণের মন্তব্য/অভিব্যক্তি প্রায়ই শোনা যায়/ দেখা যায়। স্বামীরা পরিবারের কর্তা কিংবা স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক এব্যাপারে নিঃসন্দেহে কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু তাই বলে মেয়েরা ২য় শ্রেণীর নাগরিক, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। মেয়েদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার ভুরি ভুরি উদাহরণ আমরা নবীজির জীবনে পাই, আর কুরআনে দেখি এই ঘটনাতে। 

আমার মনে হয় মেয়েরা যখন বাইরের জগতের কঠিন বাস্তবতার সাথে পরিচিত হয় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বেশী পরিণত, শক্ত মনের হয়। এমনিতেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দ্বারা একটা আত্ম মর্যাদাশীল মেয়ের বোঝা উচিৎ কোন পুরুষটা ছোক ছোক করা স্বভাবের বা প্রেমের ভান করে ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে আর কোন পুরুষটা মর্যাদা সম্পন্ন। সেই বোধটাই আরো পরিশীলিত হয় যেটা এই কাহিনীতে দেখা যায়। মেয়েগুলো এমনিতে তাদের সমাজের অন্য পুরুষদের কাছ থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখলেও অচেনা মুসার সাহায্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় নি, মুসার প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকেও বিরত থাকে নি! আর সেজন্যই বাবা মেয়ের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

Scroll to Top