কুরআনের অনুবাদ ধারাবাহিকভাবে পড়ার চ্যালেঞ্জঃ কুরআনের বর্ণনা শৈলী না বোঝা
কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করার গুরুত্ব নিয়ে পড়ার পর আশা করি কুরআন বুঝে পড়ার একটা তাড়না আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
কিন্তু ভাবছেন যে কিভাবে কী শুরু করবেন?
অথবা এইসব পোস্ট পড়ে খুব উৎসাহিত হয়ে কুরআন হাতে তুলে নিয়েছিলেন এবং বাংলা অনুবাদ পড়া শুরু করেছিলেন? তারপর কিছুই বুঝতে না পেরে একটা হোঁচট খেয়েছেন এবং হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিবে?
তিক্ত বাস্তবতা এই যে কুরআনের অনুবাদ শুরু থেকে পড়া শুরু করলে কোনো তাল পাওয়া যায়না, কেমন যেন খাপছাড়া লাগে! মনে হয় যে বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।
উদাহরণ দেই।
ধরেন কেউ সূরা বাক্বারার অনুবাদ পড়া শুরু করলো। ৪০নং আয়াতের দিকে পৌঁছলেই একজন কৌতূহলী পাঠকের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক-
# বনি ইসরাইল কারা?
# আল্লাহ কোন নিয়ামতের কথা বলেছেন যা তাদের দেয়া হয়েছিল?
# এই বাছুর পূজার ঘটনা কি?
# কোনটা আগে ঘটেছে বাছুর পূজা নাকি ফেরাউনের পতন?
# সেই হাজার হাজার বছর আগে মুসা আলাইহিস সালামের লোকেরা বাছুর পূজা করেছিল, গরু জবাই করতে বলা হলে ধানাই পানাই করছিলো এইসব কাহিনী দিয়ে আমি কী করবো!!
একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের শীর্ষ যুগে বসে এগুলা কিভাবে আমার জীবনের সাথে প্রাসঙ্গিক?
এগুলোর উত্তর না পেলে সামনে আগানো বা আগ্রহ ধরে রাখা খুব মুশকিল হয়ে যায়। কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা না, তাই না?
সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ যার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এটার ভাষাগত অলৌকিকত্ব, সেটা তো এমন খাপছাড়া হওয়ার কথা না . . . . সমস্যাটা তাহলে কোথায় হচ্ছে?
সমস্যাটা হচ্ছে আমরা কুরআনের বর্ণনাশৈলীটা বুঝি না। এটা পৃথিবীর অন্যান্য বইয়ের মতো না যে ১ম চ্যাপ্টারে আদম আলাইহিস সালামের পুরো কাহিনী একসাথে, ২য় চ্যাপ্টারে নুহ আলাইহিস সালামের কাহিনী এভাবে বর্ণনা করা হবে। প্রকৃতপক্ষে সূরা ইউসুফ ছাড়া আর কোনো সূরাতে কোনো কাহিনী ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয় নি।
কিন্তু কেন?
কেন কুরআনে ঘটনাগুলো আপাতদৃষ্টিতে বিক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ?
কারণ . . . .
কুরআন কোনো ইতিহাসগ্রন্থ না….এটা একটা হিদায়াত গ্রন্থ।
আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে . . . .
কুরআনে আল্লাহ আমাদের সাথে কথা বলেছেন! এটার বর্ণনাশৈলীটা আসলে কথোপকথনের ভঙ্গীর মতো !
আমরা যখন কারো সাথে কোনো টপিকে গল্প করি তখন কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কোনো কাহিনীর ক্রম বর্ণনা করি না। কুরআনেও তাই একটি সূরাতে কোনো কাহিনীর শুধু সেই অংশটুকুই উল্লেখ করা হয়েছে যেটা ওই সূরার থিমের সাথে প্রাসঙ্গিক।
যেমন –সূরা বাকারাহর প্রাইমারী অডিয়েন্স হচ্ছে মদীনার ইহুদীরা। তারা যে নবীজিকে মেনে নিচ্ছে না, এইটা যে কতো অনুচিত কাজ হচ্ছে সেটা সূরা বাকারাহ’তে নানা ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সূরা বাকারাহ’তে তাই মূলত মুসা আলাইহিস সালামের কওমের করা অমার্জনীয় অপরাধগুলোর কথাই বারবার উঠে এসেছে। মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুয়্যত লাভ এগুলোর কোনো উল্লেখ আমরা সূরা বাকারাতে পাই না। কুরআনের এই স্টাইলের জন্যই একটি সূরা পড়ে কোনো ঘটনার ব্যাপারে সামগ্রিক চিত্র পাওয়া সম্ভব না।
তাহলে করণীয় কী?
কুরআন বোঝা শুরু করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আমরা একটা গাইডলাইন প্রস্তুত করেছি।
এই অ্যাপ্রোচের নাম আমরা দিয়েছি ‘ঘটনা ভিত্তিক কুরআন’।
