Dua from Quran

কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করার গুরুত্ব

আচ্ছা কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্কটা কেমন? আসুন একটা দৃশ্য কল্পনা করি। 

এক ব্যক্তি, সে গুম, খুন, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি নানা ধরনের অপরাধের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিল। শুধু তাই না, সে প্রতিদিন, প্রকাশ্যে এবং উচ্চকণ্ঠে সবাইকে বলে বেড়াতো যে কোন অপরাধের শাস্তি কোনটা।

শুনে অবাক লাগছে?

মনে হচ্ছে এই বোকা লোক নিজের শাস্তি কী হওয়া উচিৎ সেটা নিজেই কেন বলছে, নিজের বিরুদ্ধে নিজেই কেন সাক্ষী দিচ্ছে?

যদি বলি এই কাজটাই আমরা সবাই প্রতিদিন কম বেশি করছি?

কিভাবে?

কেস স্টাডি ১:

ফেসবুকে জমজমাট একটা লাইভ দেখছিল তনিমা। দারুণ সব শাড়ির কালেকশন এসেছে ঈদ উপলক্ষে। কোনটা ছেড়ে কোনটা অর্ডার দিবে ভেবেই হয়রান। এই করতে করতে ফুড়ুৎ করে কখন জোহরের ওয়াক্ত চলে গেলো, টেরই পেলো না ও। যখন হুশ আসলো, তখন ভাবলো এখন পড়ে ফেলি…রোজার মাসে নামাজটা কিছুতেই মিস করতে চায় না….

নামাজে যখন দাঁড়ালো, তখন নামাজে দাঁড়িয়ে পরে ফেললো সূরা মাউন , একদম ছোট বেলায় হুজুরের কাছে মুখস্থ করা হয়েছিল শেষ দশটা সূরা, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওগুলো দিয়েই নামাজ পড়ে তনিমা।

কেস স্টাডি ২:

এবার রোজায় কুরআন খতম দিচ্ছে নাঈমা, প্রতি রোজাতেই করে। প্রত্যেক নামাজের পর কয়েক পাতা করে পড়ে প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। আজকে পড়লো ২৬ তম পারা, সূরা হুজুরাত তিলাওয়াত করে শেষ করতে না করতেই বেল বাজলো, ভাইয়ের বউ এসেছে পরিবারের সবার জন্য ঈদের গিফট নিয়ে…

বেশিক্ষণ বসলো না ছোট ভাইয়ের বউ, এখান থেকে আবার মার্কেটে যাবে, কেনাকাটা এখনও বাকি… চলে যাবার পর গিফটের প্যাকেট গুলো খুলতেই মুখটা কালো হয়ে গেলো নাঈমার। কেমন খ্যাত একটা রং শাড়ীটার, বাচ্চাদের কাপড় গুলোও কম দামী লাগছে . . . .

ফোন দিলো বোনকে, এক গাদা নিন্দা করলো ভাইয়ের বউয়ের নামে। এত টাকা রোজগার করে তাদের ভাই অথচ শ্বশুরবাড়ির জন্য গিফট কিনতে গিয়ে ভাইয়ের বউয়ের টাকা যেন বেরই হতে চায় না। ভাইয়াও হয়েছে একটা বউ ভক্ত, সব কিছু বউয়ের উপর ছেড়ে দিয়ে রেখেছে। নিজের শশুরবাড়িতে কেমনে মুখ দেখাবে এই চিন্তায় অস্থির লাগছে এখন নাঈমার। যাই হোক, ফোন রেখে গেলো জোহরের নামাজ পড়তে, নামাজে পড়লো সূরা হুমাজাহ, এই রোজায় এই সূরাটা নতুন মুখস্থ করেছে, ঠিকমতো পড়তে পেরে ভালোই লাগলো . . . .

তনিমা আর নাঈমা কি জানে যে মাত্রই ওরা কী করলো? পরকালে ওদের কী শাস্তি হওয়া উচিৎ সেটা নিজেরাই ঘোষণা দিলো উচ্চকন্ঠে! একজন নামাজে উদাসীনদের শাস্তি বললো, আরেকজন বললো গীবত করার, সামনে বা পিছনে সমালোচনাকারীর . . . .

আচ্ছা এই কাজগুলো কি আমরাও নিয়মিত করি?

আমরা কি জানি কুরআনে আমাদের এই অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে?

রাসূল (সা.) বলবেন- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’

(সূরা ফুরক্বান: ৩০)

অর্থ্যাৎ কিয়ামতের দিন নবীজী তার উম্মতের এক অংশের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলবেন, এরা কুরআনকে পরিত্যাগ করেছিল।

আচ্ছা এই যাত্রায় আমাদের অবস্থান কোথায়? 

আমরা কি কুরআনকে পরিত্যাগ করিনি? 

উপরে যে দুটো কেস স্টাডির কথা বলেছিলাম সেগুলো কি মুসলিমদের মাঝে বিদ্যমান খুবই সাধারণ দৃশ্য না?

কিন্তু এভাবেই কি কাটবে এই জীবন?

মৃত্যুর ফেরেশতা যদি হঠাৎ করেই দুয়ারে এসে দাঁড়ায় তাহলে আমরা কি নিচের আয়াতের মতো বলে উঠবো?

‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে আরো কিছুকালের অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদাক্বাহ

করতাম আর সৎকর্মশীলদের মধ্যে শামিল হয়ে যেতাম।’ (আল-মুনাফিকুন:১০)

তাহলে আজ থেকেই শুরু হোক কুরআনকে প্রতিদিনের জীবনে জীবন্ত করার প্রচেষ্টা?

কিভাবে?

আপনার সেই যাত্রাটা সহজ করতেই এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে।

এক নতুন, অথচ অনন্য সাধারণ যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম ।

Scroll to Top