Dua from Quran

বনী ইসরাইলদের সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা

আমরা নিজেদের অতীত ইতিহাস জানলে বুঝতাম যে, মুসলিমরা একসময় দোর্দণ্ড প্রতাপের সাথে শতাব্দীর পর শতাব্দী এই বিশ্ব শাসন করে গেছে। অথচ এখন সবখানে মুসলিমরা কুকুর বিড়ালের মত মরবে— এটা দেখতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

আসলে ইসলামের একটা বৈশ্বিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিদ্যমান। অথচ এই ব্যাপারটা আজকাল আমাদের কল্পনাতেই আসে না। আর সেজন্যই ইসলামের অনেক বিধানের প্রজ্ঞাও আমরা বুঝতে পারি না। ৯/১১ এর পরে মুসলিমরা নিজেদের নাম পরিবর্তনের জন্য যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিল, সেটা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে জাতি হিসেবে আমরা কতটা হীনম্মন্যতায় ভুগছি।

এই যে একটা চরম সম্মানজনক অবস্থা থেকে লাঞ্ছনার চূড়ান্ত পর্যায়ে নেমে আসা, এটা বনী ইসরাঈল ও মুসলিম উভয়দের সাথেই ঘটেছে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, ইতিহাসের ঘটনা পরিক্রমাগুলো যদি আমরা একটা গ্রাফে উপস্থাপন করি, তাহলে দুটো জাতির অবস্থা পরিবর্তনের যে ক্রম দেখা যাবে—তার মধ্যে কোনটা বনী ইসরাঈলদের আর কোনটা মুসলিমদের তা আলাদা করাই দুষ্কর হয়ে যাবে! অর্থ্যাৎ আমরা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছি। 

তাই বনী ইসরাঈলদের সম্পর্কে জানার সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয়তা হলো তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আমাদের মাঝে তাদের কাণ্ডকীর্তি নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করার একটা প্রবণতা আছে। অথচ আমরা একবারও ভেবে দেখিনা যে, অনুরূপ স্বভাব আমাদের মাঝেও আছে কি না বা আমরাও তেমনটা করছি কি না। তাদের কাহিনী পড়লে আমরা বুঝব যে, আল্লাহ্‌র সাহায্য কোনো জাতির কেনা স্থায়ী সম্পত্তি নয় যে চাইলেই আকাশ থেকে নেমে আসবে। এটা শর্তসাপেক্ষ, অর্জন করে নিতে হয়। তারমানে সিরিয়াতে, ফিলিস্তিনে কচুকাটা হওয়া নিষ্পাপ শিশুদের মুখ দেখে আল্লাহ কোথায়, আল্লাহ কেন এগুলা ঘটতে দিচ্ছেন এসব প্রশ্ন অমূলক। এরপর থেকে আমরা অনুধাবন করব যে, এগুলো আমাদেরই কর্মফল, আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে অবস্থার পরিবর্তনে। তাই বনী ইসরাঈলদের নিয়ে জানতে গিয়ে আমরা বারবার নিজেদের প্রশ্ন করব—আমরাও কি সেইসব স্বভাব ধারণ করছি, যার কারণে আল্লাহ বনী ইসরাঈলদের উপর থেকে তাঁরই দেয়া নিয়ামতসমূহ উঠিয়ে নিয়েছিলেন?

Scroll to Top