ঘটনা ভিত্তিক স্টাইলে কুরআন পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গী
আমরা যখন কুরআনে বর্ণিত নানা ঘটনা নিয়ে পড়া শুরু করবো তখন আমাদের প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে এই চরিত্রগুলো আমাদের মতোই মানুষ ছিলেন আর সেজন্যই কুরআন তাদেরকে আমাদের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আরে অমুক তো নবীর মা ছিলেন অথবা তমুক তো নবী ছিলেন তাই এইসব কাজ করতে পেরেছেন, আমি সাধারণ মানুষ, আমার ঈমান অত উচ্চ লেভেলের না, অর্থ্যাৎ আমরা যদি তাদেরকে দূর আকাশের তারার মত করে ভাবতে থাকি তাহলে সেটা খুবই সমস্যাজনক একটা দৃষ্টিভঙ্গী।
কেন?
কারণ তাহলে পরোক্ষভাবে আমরা দাবি করছি যে আল্লাহ এমন চরিত্রদেরকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন যাদেরকে আসলে অনুসরণ করা বাস্তবে সম্ভব না।
এতে যে আমাদের রাবকে অবমাননা করা হচ্ছে সেটা কি আমরা টের পাই?
দ্বিতীয় যে বিষয়টা আমাদের মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে কুরআনে ঘটনাগুলোর কোনো বাহুল্য বর্ণনা নেই। চরিত্রগুলোর নাম, বসবাসের জায়গা, কিভাবে কী হল ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে হয়তো জাগবে কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে কুরআন কোনো গল্পের বই নয়, এটা প্রাথমিকভাবে হিদায়াতগ্রন্থ। । তাই ঘটনাভিত্তিক স্টাইল থেকে পূর্ণ উপকার পেতে চাইলে আমাদের মন মানসিকতায় মোটা দাগে দুইটা পরিবর্তন আনতে হবেঃ
১) চরিত্রগুলোকে পাশের বাসার মানুষের মতো আপন, কাছের ভাবতে হবে। তাহলেই তাদের দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি অনুভূতিগুলো আমাদেরকে স্পর্ষ করবে, আমরা নিজেদের জীবনের সাথে তাদের মিল খুঁজে পাবো ইনশাআল্লাহ্।
২) ঘটনা গুলোর বিবরণের ব্যাপারে অযাচিত কৌতূহল দূর করতে হবে। ঘটনা থেকে নিজেদের জীবনে দিক নির্দেশনা পাওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য, যে তথ্যের আমাদের দরকার নেই, কুরআন ও হাদীস সেই তথ্য আমাদেরকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি।
চিন্তা চেতনায় এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসার পর আমরা তাহলে রেডি প্রতিদিনের জীবনে কুরআন জীবন্ত করার যাত্রায়।
