Dua from Quran

ঘটনাভিত্তিক স্টাইলে কুরআন পড়ার সুবিধা

ঘটনাভিত্তিক স্টাইলে কুরআন পড়ার উদাহরণ দেখার পর আশা করি কৌশলটা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এখন এভাবে কুরআন পড়ার সুবিধাগুলো কী কী?

১) কুরআনের এক অংশের সাথে আরেক অংশের সংযোগ পাওয়া যায়।

২)  ধারাবাহিকভাবে কুরআনের অর্থ পড়া শুরু করলে যে খেই হারিয়ে ফেলার অনুভূতি হয় সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।  পাজেল এর টুকরাগুলো জোড়া লাগাতে পেরে সামগ্রিক একটা চিত্র প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

৩) একটা ঘটনা নিয়ে পড়া শেষ হলে একটা sense of accomplishment এর  অনুভূতি জাগ্রত হয়। ধরেন, আপনি মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম সংক্রান্ত সবগুলো আয়াত একসাথে করে পড়লেন। এতে হয়তো আপনার মাত্র ৭/৮টা আয়াত পড়া হবে, কিন্তু তাও মনে হবে যে এই ঘটনাটার ব্যাপারে আল্লাহ যা যা বলেছেন তার সবটুকু অন্তত আমি জানি। ফলে হাঁটি হাঁটি পা করে হলেও কুরআন জানার পথে এগিয়ে যাচ্ছি এমন একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তখন যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় সেটা আমাদের আরো এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।

আর সবচেয়ে বড় উপকারিতা কী? 

একটা ঘটনার পুরো চিত্রটা জানার পর সেটার সাথে আমাদের নিজেদের বা আশে পাশের মানুষের জীবনের মিল খোঁজার চেষ্টা করতে পারি। তারপর সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে পারি, সেই সাথে এইসব ঘটনার রেফারেন্স টেনে দুআ বানাতে পারি যেমনটা উপরে সূরা আরাফ এবং বনী ইসরাঈল প্রসংগে বললাম। 

এবং….

একটা অনন্য সাধারণ ইবাদত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কী সেটা?

কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা!

 কারণ আমরা যখন একটা ঘটনা নিয়ে জানবো, সেটার নানা আঙ্গিক বিশ্লেষণ করবো, সেগুলোর সাথে আমাদের জীবনের মিল খুঁজবো, , দুআ করবো… চিন্তা না করলে সেটা কখনোই সম্ভব না। 

এই কাজটা করতে গিয়ে প্রথমে হয়তো খুব কঠিন লাগতে পারে, মনে হতে পারে যে তার চেয়ে আগে যেভাবে শুধু তিলাওয়াত করে যেতাম সেটাই বোধহয় ভালো ছিল, কিন্তু না….কুরআনের অর্থ না বুঝলে আমরা কিভাবে নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেই সেটা শুরুতেই বলেছি। তাছাড়া আল্লাহ কুরআনে বলছেন –

“তারা কি কুরআন সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তরে তালা দেয়া আছে?” (সূরা মুহাম্মদ:২৪)

অর্থ্যাৎ কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা না করার মানে আমাদের অন্তর তালাবদ্ধ হয়ে আছে!

আর একবার কুরআন বুঝে পড়ার, সেটা দিয়ে দুআ বানানোর মজা যদি পেয়ে যাই, তাহলে জীবনটাই অন্যরকম হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।

এভাবে কুরআন পড়ার আরও সুবিধা হচ্ছে-

আমরা বর্তমানে রোল মডেলের মারাত্মক সংকটে ভুগছি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো কারণ অমুক ফেসবুক সেলিব্রেটি ভাইয়া বা আপু নয় বরং আমরা দিক নির্দেশনা নিবো কুরআনে উল্লেখিত চরিত্রগুলো থেকে যাদের উপরে আল্লাহ নিঃসন্দেহে সন্তুষ্ট। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে করবো এইটা?

সেটা হাতে কলমে দেখানোর চেষ্টা করবো আমরা ইনশাআল্লাহ্‌ এই ওয়েবসাইটে। 

Let’s say Bismillah and start!

তবে শুরু করার আগে সবার প্রথমে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন।

কিভাবে?

Scroll to Top