Dua from Quran

মুসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-১৩' এর সম্ভাব্য উত্তর

সম্ভাব্য উত্তর ১৩

এই ব্যাপারটা আমাকে খুব বিস্ময়াভিভূত করে! ঘটনাত্র আদ্যপান্ত শোনার পরও কিভাবে মুসার সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন? আমাদের চিন্তাধারণা অনুযায়ী মুসা তো একজন ফেরারী আসামী, তাও আবার খুনের মামলায়! একদম কপর্দকশূন্য অবস্থায় এসেছেন নতুন দেশে! আমরা হলে দিতাম এমন লোকের সাথে মেয়ে বিয়ে?

মেয়েদের বাবা এখানে মুসা আলাইহিস সালামের চরিত্র, অকপটে সত্যি বলে দেয়া এগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন যেটা আসলে মানুষের সাথে আজীবন রয়ে যায়, এগুলোই আসল সম্পদ। টাকা পয়সা, ক্যারিয়ার, বাড়ি গাড়ি এমনকি স্বাস্থ্য, চেহারাও যে ক্ষণস্থায়ী এই সাধারণ বোধটুকু আমি আজকাল মানুষের মাঝে দেখি না। মানুষকে যখন লিস্ত দিতে দেখি যে কী কী লাগবে সংগীর মাঝে, তখন আমার খুব বলতে ইচ্ছা করে যে একটা রোবট অর্ডার দেয়া যায় নাকি দেখি যার মাঝে এই সব বৈশিষ্ট্যগুলো একদম পরিমিত মাত্রায় থাকবে, কম বেশীও হবে না। আমরা কবে চিন্তাচেতনায় পরিণত হবো জানি না। তবে বিয়ের ব্যাপারে সঠিক মানসিকতার অনুপস্থিতিতে সমাজে রীতিমত বিপর্যয় নেমে আসে যেটা আমরা অলরেডি প্রত্যক্ষ করছি। নাটক সিনেমা দেখে বড় হওয়া আমাদের প্রজন্ম একটা কল্পনার জগতে বাস করি, বাস্তবের সাথে যেটার অমিল এতটাই বেশী যে আমাদের ঘরগুলোতে শান্তি একটা সুদূরপরাহত বিষয় হয়ে গেছে। 

তবে এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে অজানা অচেনা একজনের সাথে চোখ বন্ধ করে মেয়ে বিয়ে দেয়াটা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা ছেলের সাথে কথা বলে তাকে যতই সৎ, কর্মঠ মনে হোক না কেন। মেয়েদের বাবা এই ঝুঁকি কিভাবে কমিয়েছিলেন?

জ্বী, বিয়েটাকে শর্তযুক্ত করে। 

মনে আছে যে শর্ত ছিলো ৮-১০ বছর ওখানেই থাকতে হবে? 

এটা একটা লম্বা সময় একজন মানুষের আসল রুপ চেনার জন্য। তারপর যদি মেয়েকে নিয়ে অন্য কোথাও যেতে চায় তাহলে সেটাতে সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ কিন্তু প্রথম দিকের বছরগুলোতে মেয়ে তার কাছেই থাকবে, তার নিরাপত্তার বলয়ে।

চমৎকার ভারসাম্য না?

এই ঘটনাতে আরো একটা বিষয় চিন্তা করার মত। জীবনে নাজুক সময় আসবে, তখন সেটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের অন্যের সাহায্য লাগবে এটাই স্বাভাবিক, এটাতে এত কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। মুসা আলাইহিস সালামও প্রথম দিকে আমাদের ভাষায় ‘ঘরজামাই’ থেকেছেন, এটা কোনো অপরাধ নয়। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই সারাজীবনের জন্য পরনির্ভরশীল থাকার প্রবণতা কোনো প্রশংসনীয় ব্যাপার না, মুক্কার মুহাজিররা প্রাথমিকভাবে মদীনার আনসারদের সাহায্য নিলেও পরে ঠিকই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।

Scroll to Top