Dua from Quran

মুসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-১১' এর সম্ভাব্য উত্তর

সম্ভাব্য উত্তর ১১

আগে আমরা দেখিয়েছি যে কিভাবে এই ঘটনা থেকে আমরা নারীদের কর্মজীবনের ব্যাপারে একটা ধারণা পাই। এই ঘটনার আরেকটা চমকপ্রদ দিক হচ্ছে এখানে নারী ও পুরুষের মাঝে সম্মানজনক ইন্টার‍্যাকশনের ব্যাপারেও গাইডলাইন পাওয়া যায় যেটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক কনফিউশন বিদ্যমান। 

প্রথমত, নারীর স্বাভাবিক কণ্ঠ পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। আবারো বলছি, স্বাভাবিক কণ্ঠ। অবশ্যই ছলা কলা করে বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করার জন্য যেভাবে কথা বলা হয় সেটার কথা বলা হচ্ছে না। তাই একটা মেয়ে অবশ্যই রিকশাওয়ালা, দোকানদার এদের সাথে কথা বলতে পারে। এই ঘটনাতেও আমরা দেখি যে মেয়েগুলো মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছে, তিনি সাহায্যের প্রস্তাব দিলে সেটাকে প্রত্যাখ্যানও করে নি। 

দ্বিতীয়ত, স্বাভাবিক কণ্ঠের কথাবার্তাও অনিয়ন্ত্রিত, খাজুরা আলাপ হওয়া যাবে না। মুসা আলাইহিস সালাম মেয়েগুলোকে এখানে এভাবে অপেক্ষা করার পিছনের কারণ জানতে চেয়েছেন, অবস্থা শুনে তাদেরকে সাহায্য করেছেন, আবার গাছের ছায়ার নিচে ফিরে গেছেন। কোনো গল্প গুজব করেন নাই।

পরবর্তীতে যখন মেয়েটা আবার এসে তার বাবার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছে, তখনো কোনো বাহুল্য কথা হয় নি। এটা আমরা কিভাবে বুঝতে পারি? 

কুরআনের শব্দ চয়ন থেকে!

এখানে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে কুরআনের প্রত্যেকটি শব্দের ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেকটি শব্দের, অক্ষরের পিছনে উদ্দেশ্য এবং প্রজ্ঞা আছে। সূরা ক্বাসাসের ২৫ নং আয়াত পড়লে আমরা খেয়াল করবো যে এখানে একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে-লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে-মানে মেয়েটা লাজুক ভঙ্গীতে এসেছিল ২য়বার কথা বলার সময়। এটার মানে হচ্ছে মুসার সাথে যখন মেয়েটি কথা বলতে এসেছিল তখন তার মধ্যে একটা জড়তা কাজ করছিল। এরকমটাই হওয়ার কথা। আপনি খুব বেশি সহজ হবেন না একজন গায়ের মাহরামের সাথে। কোনো মেয়ে যদি পূর্ণ পর্দা করে ছেলেদের সাথে নিয়মিত হা হা হি হি করে তখন ছেলেটা ঠিকই সেই মেয়েটাকে সহজলভ্য ভাবে, তাকে উপযুক্ত সম্মান দেয় না। 

এখানে উল্লেখ্য যে মুসা আলাইহিস সালাম তার কাহিনীর বৃত্তান্ত মেয়েদের বাবাকে বলেছিলেন, মেয়েদেরকে নয়। এর উলটা ব্যাপার আমরা দেখি সূরা ইউসুফে। ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন জেলে ছিলেন, ওনার পুরুষ সংগীদের তিনি দাওয়াত দিচ্ছিলেন, অনেক গল্প করছিলেন। এমন গল্প গুজব কিন্তু উনি আযীযের স্ত্রীর সাথে করে নি। 

তৃতীয়ত, নারী ও পুরুষের মাঝে সম্মানজনক, শরীয়ত অনুমোদিত কথাবার্তা, যোগাযোগ বিয়েতে গড়াতে পারে, যেমনটা এখানে ঘটেছে। তাই একই অফিসে সহকর্মী ছিল বা একই প্রতিষ্ঠানে সহপাঠী ছিল শুনলেই তারা হারাম সম্পর্কে ছিল এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পর্দা করে চলা একটা মেয়েকে ভালো লাগতেই পারে, তখন তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে উপযুক্ত আচরণ, রাত জেগে ফোনে কথা বলা বা রিকশায় ঘোরাঘুরি করা কখনোই করা যাবে না।

চতুর্থত, ইসলামে নারী ও পুরুষের মাঝে একটা সম্মান সূচক সম্পর্ক। স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের সঙ্গী, এটা কুরআনের কথা। সেই জিনিসটা পরিবর্তন করে শুধুই কর্তৃত্ব মূলক সম্পর্ক বানিয়ে দেয়া কোনো কাজের কথা নয়। কে কার অধীনে থাকবে এটা স্পষ্ট থাকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জিনিসটাকে আমরা এরকম না বানিয়ে ফেলি যে শুধুই শ্রেণিবিভাগের মতো সম্পর্ক। এটা নিয়ে আমরা আগে কথা বলেছি যে কিভাবে বাবা মেয়ের অথিরিটি হওয়া সত্যেও তাদের মাঝে একটা সহজ সম্পর্ক ছিল, বাবা কিভাবে মেয়ের মতামতকে মূল্যায়ন করেছেন।

Scroll to Top