মুসা (আঃ) এর বিয়ে সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-৮' এর সম্ভাব্য উত্তর
সম্ভাব্য উত্তর ৮
নিশ্চয়ই আল্লাহ যেভাবে আমাদের জীবন ডিজাইন করেন সেটা নিখুঁত, আমরা টের পাই বা না পাই। মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে হিকমাহ কী ছিলো সেটা তো আল্লাহই ভালো জানেন কিন্তু আমরা যদি উনার পরবর্তী জীবন দেখি, তাহলে দেখবো যে উনাকে দুই ধরণের অডিয়েন্সের সাথে তাল মিলাতে হয়েছে। একটা ফিরাউন ও তার সভাসদগণ। তাদের সাথে কুটনৈতিক লেভেলের কৌশল জানতে উনার ফিরাউনের প্রাসাদে বেড়ে ওঠা জরুরি ছিল, তাই তার শৈশব, কৈশোর সেখানে কেটেছে। আরেকটা হচ্ছে বনী ইসরাঈলের সাধারণ জনগণ যারা উনাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে। তাদেরকে পরিচালনা করার জন্য যেসব গুণাবলী দরকার সেটা প্রাসাদে বেড়ে উঠলে হত না, সেজন্য দরকার ছিলো ভিন্ন প্রশিক্ষণ যেটা মাদইয়ানের মেষ পালকের জীবন তাকে দিয়েছে। একবার একটা লেকচারে শুনেছিলাম যে আল্লাহর সব নবীই জীবনের কোনো না কোনো সময় মেষ পালক ছিলেন কারণ এটা করার জন্য অসম্ভব ধৈর্য লাগে। এবং এরা সহজে কথা শুনতে চায় না, ঠিক মানুষের মতই। দাওয়াতী কাজের জন্য অপরিহার্য গুণাবলী- সহিষ্ণুতা, ধৈর্য্য এগুলো অর্জন করার জন্যই আল্লাহ তাদেরকে এই প্রশিক্ষণ দেন।
উসিলার ধারণা নিয়ে আমরা আগেও কথা বলেছি। এখানেও এই কন্সেপ্ট প্রযোজ্য। আমাদের জীবনের যা কিছু ঘটে সেগুলো যদি আমরা উসিলা হিসেবে গ্রহণ করি, আমরা দেখার চেষ্টা করি যে কোন জিনিস যেটা আমরা খুব অপছন্দ করি ,খুব অসহ্য লাগছে বা খুব কষ্ট লাগছে এরকম কোন একটা ব্যাপার কিন্তু সেটার ফলে হয়তো আমাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন এসেছে। আমার জীবনে আমি এরকম অনেক কিছু মনে করতে পারি। আমি হয়তো অনেক বেশি কষ্টে ছিলাম, ভেবেই পাচ্ছিলাম না এটার মধ্যে কী কল্যাণ থাকতে পারে, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ পরে বুঝতে পেরেছি আমার মধ্যে এই কারণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
