মুসা (আঃ) এর মিশর ত্যাগ সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-১' এর সম্ভাব্য উত্তর
সম্ভাব্য উত্তর ১
মুসা আলাইহিস সালাম এখানে মূলত দুটো ভুল করেছিলেন
১) দুই পক্ষের কথা না শুনেই বনী ইসরাইলীয়র পক্ষাবলম্বন করে ফেলেছিলেন। সাধারণত যেহেতু এটাই হয় যে মিশরীয়রা বনী ইসরাঈলীয়দের উপর অত্যাচার চালায়, তাই মুসা আলাইহিস সালাম ধরেই নিয়েছিলেন যে মিশরীয় ব্যক্তিটাই দোষী। ইংরেজীতে এটাকে বলে Stereotyping, মানে একটা সম্প্রদায়ের সবার ব্যাপারে একই ধারণা পোষণ করা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এটার অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায় যার মাধ্যমে আমরা নিজেদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করি- অমুক পশ্চিমা দেশে থাকে তাহলে সে নিশ্চয়ই এমন, অথবা অমুক ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত, তাহলে নিঃসন্দেহে তারা তমুক বিশ্বাস করে ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা এই যে সব মানুষ একরকম হয় না। তাই তো আমরা বনী ইসরাইলীয়র মাঝে অপরাধী দেখতে পেলাম আবার মিশরীয়দের মাঝে মুসা আলাইহিস সালামের হিতাকাংখী পেলাম (যে মুসাকে ফিরাউনের সরকারের গোপন তথ্য জানিয়ে দিয়ে তাকে পালাতে সাহায্য করেছিল যে মিশরীয় নাকি এটা কুরআনে সরাসরি উল্লেখ করা না থাকলেও এটা অনুমান করে নেয়া ইনশাল্লাহ ভুল নয় যেহেতু মিশরীয় ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এই অভ্যন্তরীণ খবর জানার কথা না।)
২) ঝোঁকের মাথায় কোনো কাজ করা। মুসা আলাইহিস সালাম সাত পাঁচ না ভেবেই যে আঘাত করে ফেললেন এটাও ছিলো একটা বিশাল ভুল, তার ঘুষিতে মিশরীয় লোকটা একদম মারা যাওয়ার কারণ ছিলো এটাই। এমনিতেই বনী ইসরাইলীয়রা সমাজে অত্যাচারিত অবস্থায় ছিল, ওনার এই তাড়াহুড়ার কাজের ফলে তাদের অবস্থা আরো শোচনীয় হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যেহেতু মিশরীয়রা প্রথমেই ধারণা করে নিবে যে তাকে একজন বনী ইসরাইলীয় হত্যা করেছে এবং অজুহাত খুঁজে পাবে এটা প্রচার করার যে বনী ইস্রাইলীয়রা আসলে এমনই, ওদের হাতে মিশরীয়রা নিরাপদ না অতএব ওদেরকে চাপের মাঝে রাখা উচিৎ ইত্যাদি।
