মুসা (আঃ) এর জন্ম সম্পর্কিত আয়াত গুলো নিয়ে 'চিন্তার খোরাক-৬' এর সম্ভাব্য উত্তর
সম্ভাব্য উত্তর ৬
কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের জন্য হিদায়ত গ্রন্থ হিসেবে যথেষ্ট। সেই বইতে আর কোন শাসকের কথা এতবার বলা হয়নি, যতটা ফিরাউনের ব্যাপারে বলা হয়েছে। ফেরাউনের মতো নিষ্ঠুর, শক্তিশালী শাসকের মোকাবেলায় সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। কেউ একজন, যে ফেরাউনকে ভিতর এবং বাহির সম্পূর্ণভাবে চিনে, তার দুর্বলতা জানে, যে অনেকটা তার সমান্তরাল এরকম কারো দরকার ছিল। এটা সম্ভব ছিল যদি কেউ ফেরাউন কে চোখের সামনে দেখে, তার ভালোবাসা পেয়ে বড় হয়। তার আশ্রিত সন্তান হয়ে বড় হলেই এমনটা সম্ভব। তার অন্দরমহলে মুসার প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে তৈরি করেছিলেন। ব্যাপারটা যেন অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো।
তবে কুরআনের আয়াত (২৮:৮, ৯) যে বিষয়টার দিকে বারবার হাইলাইট করছে সেটা হচ্ছে যে, ফেরাউনের কোনো ধারণা ছিল না সে কী করছে!
মানে এটা ছিল আল্লাহর ক্ষমতার একটা নিদর্শন, আল্লাহ যদি কাউকে নিরাপদ রাখতে চান, কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে নিতে চান তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তি তাকে রহিত করতে পারবে না।
যে ফিরাউন শত শত শিশুকে হত্যা করেছিল নিজের সাম্রাজ্য বাঁচাতে, যে ফেরাউন নিজেকে রব দাবি করতো, তার মানবীয় সীমাবদ্ধতা এতটাই বেশি ছিল যে সে নিজের ভবিষ্যত ধ্বংসের কারণকে সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে বুকে তুলে নিয়েছিল। অন্য কাউকে দোষ দেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
(একই ব্যাপার আমরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রেও দেখি। প্রশাসনিক দক্ষতা, শাসন দক্ষতা হঠাৎ করে হয় না, এগুলোর জন্য সাধারণত প্রশিক্ষণ লাগে। মিশরে আজিজের ঘরে যেন উনি বড় হন, সেজন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সব কিছু উসিলা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। উনার ভাইরা তাকে কুঁপে ফেলে দিবে ,কূপ থেকে যারা তাকে তুলবে তারা আবার মিশরে যাবে, তাকে দাস হিসেবে বেঁচে দিবে এবং মিশরের একজন আজিজ তাকে কিনবে এই সব কিছু ছিলো আল্লাহর বিশাল পরিকল্পনার অংশ। এরকম ভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিভিন্ন কিছু আমাদের জীবনে উসীলা হিসেবে ব্যবহার করেন। ওনার কর্মপদ্ধতি আমরা জানি না। যখন আমরা আল্লাহর নাম গুলো জানবো, তাকে চিনবো, কুরআনের গল্পগুলো বিশ্লেষণ করে জানবো, তখন আমাদের এক প্রকার ভরসা থাকবে যে যা কিছু হচ্ছে সেখানে অবশ্যই ভালো কিছু আছে।)
